ভীষণ বিপদ pdf – হিমানীশ গোস্বামী Bhison Bipod pdf – Himanish Goswami

ভীষণ বিপদ pdf - হিমানীশ গোস্বামী Bhison Bipod pdf - Himanish Goswami
ভীষণ বিপদ pdf - হিমানীশ গোস্বামী Bhison Bipod pdf - Himanish Goswami

হিমানীশ গোস্বামীর Bhison Bipod pdf ভীষণ বিপদ pdf ডাউনলোড করুন ও Bhison Bipod pdf পড়ুন।

ভীষণ বিপদ pdf - হিমানীশ গোস্বামী Bhison Bipod pdf - Himanish Goswami
ভীষণ বিপদ pdf – হিমানীশ গোস্বামী Bhison Bipod pdf – Himanish Goswami

Bhison Bipod pdf ভীষণ বিপদ pdf নমুনাঃ

শ্যামল ভদ্রের বাড়িটা কলকাতার বাইরে, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে যখন শ্যামলের ঠাকুর্দা মাধব ভদ্র পাঁচ কাঠা জমি তিনশো টাকায় কেনেন তখন তিনি বা তৎকালীন অন্য কেউই অনুমান করতে পারেননি যে ভবিষ্যতে ওই জমির অত চাহিদা হবে, এবং ১৯৮০ সালে তিন কাঠা জমি বিক্রি করেই পাওয়া যাবে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা! শ্যামলদের অবস্থা কিন্তু তাতেও খুব ভাল হয়নি। ওই টাকার অর্ধেকই খরচ হয়ে গেছে পুরনো দোতলা বাড়িটি কেবল মেরামত করতেই। বাকি টাকাটা বিভিন্ন কোম্পানিতে রেখে সুদ এবং শ্যামলের বাবার সামান্য পেনসন হচ্ছে তাদের সাতজনের পরিবারের প্রধান আয় । শ্যামলের বাবা অবিনাশ ভদ্র এ ছাড়া ছাত্র পড়ান এবং কখনও কখনও জমিরও দালালি করেন তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে।

উত্তরের বারান্দা pdf – অভিরূপ সরকার Uttarer Baranda pdf by Abhirup Bandyopadhyay

অবিনাশবাবুর রোগা, সিড়িঙ্গে চেহারা, ময়লা চাদর গায়ে, নড়বড়ে চশমায় ছোট-ছোট চোখ। তিনি বললেন, “কী জানি কী হতে পারে। এখনও তো আসেনি সে বাড়িতে।” চিঠি দেখে বললেন, “লেখাটা ওরই বলে মনে হয়। শ্যামল কথাটা লিখে যে নীচে একটা বড় দাগ মারে, সেটা সে করেছে। অক্ষরগুলো যেন ওরই লেখা। কিন্তু ওকে চুরি করবে কে, কেন ? আমাদের তো এই অবস্থা, দু’বেলা কোনওমতে সংসার চলে। যদি লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দেয় তা হলে আমাদের তা দেওয়ার কোনও উপায় নেই। এমনকী দশ হাজার টাকাও নয়। কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্র ভাল ছিল। শুনেছি পড়াশুনো ভালই করে, তবে পরীক্ষায় কিছু হতে পারলে তবে তো? কদিন আগে থেকে কীরকম আনমনা হয়ে ছিল সেটা লক্ষ করেছি আমরা।

আমরা কথাটা ঠিক নয়, ওর মা। কেমন যেন একটা উদ্‌ভ্রান্ত ভাব। একটু খেয়েই উঠে পড়ে, সেই সকালে বেরিয়ে যায়, ফেরে সন্ধের পর। তবে খিদে থাকে না, বলে, ‘বাইরে খেয়ে এসেছি।’ কোথায় তা বলে না। আজ এখনও আসেনি। এত রাত কখনও করে না। ন’টা বেজে গেছে না! সাড়ে ন’টা ?”
হড়বড় করে বলে চললেন অবিনাশবাবু। হাত একটু-একটু কাঁপছে। অমরবাবু বললেন, “দীপকের কথা কিছু বলত? ”

“দীপক ? হ্যাঁ, সে তো মাঝে-মাঝে এখানে এসেছে। দু-একদিন দুপুরে এখানেই খেয়েছে।”
এ-কথায় অমরবাবু খুবই বিচলিত বোধ করলেন। এখানে কেউ থাকতে পারে এটাই তাঁর ধারণার বাইরে। এখানে কেউ বেড়াতে আসতে পারে, বিশেষ করে দীপক, সেটাও কেমন করে হয় তা বুঝতে পারেন না। ছেলেটির উপর তাঁর আর আস্থা থাকে না। তার উপর যদি এইরকম কেলেঙ্কারি বাধিয়ে থাকে তা হলে আর এক চিত্তির।

অমরবাবু বললেন, “ এখন আপনি কী করবেন অবিনাশবাবু?”
এখন কেবল অবিনাশবাবু নন, তাঁর স্ত্রী, তাঁর দুই নাবালক পুত্র, এক কন্যা এবং অবিনাশবাবুর পিতা প্রায় আশি বছরের ক্ষীণকায় বৃদ্ধ মাধব। এ ছাড়া পাড়া-পড়শির সংখ্যাও কম নয়। একটা চাপা উত্তেজনা, ফিসফিস কথা, তবে যথেষ্ট সংযত। প্রতিবেশীরা এসেছেন বাড়ির সামনে একখানা গাড়ির আকস্মিক আবির্ভাবে। এ বাড়িতে স্মরণকালের মধ্যে কোনও গাড়ি আসেনি, এ পাড়াতেই গাড়ির দেখা পাওয়া একটা স্মরণীয় ঘটনা।

Rajokiya Premkatha pdf – Chitra Deb রাজকীয় প্রেমকথা pdf – চিত্রা দেব

গাড়িখানা অমরবাবুরই। তিনি এখানে আর এক মুহূর্তও থাকতে চাইছেন না। এই পাড়া তাঁর কাছে অসহ্য। উদ্বাস্তু কলোনির মতো পিলপিল করছে লোক। এমন চেঁচিয়ে সব কথা বলে, এমন ভাবভঙ্গি সবার। কয়েকটি ছেলে তাঁর গাড়ির ভেতর উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে, কেউ বনেটে এবং অন্যত্র হাত বুলোচ্ছে, যেন গাড়ি নয়, ওটা মোষ কিংবা গোরু! রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো বেশ জোরালোই। এত আলো তিনি কলকাতার বাইরে এই শহরতলিতে কখনওই আশা করেননি।

তিনি বিরক্ত হয়ে দূর থেকেই চেঁচিয়ে বললেন, “এই, গাড়ির গায়ে হাত দিও না! হাত দিও না!” ছোটরা সেই আওয়াজ শুনেই সরে দাঁড়াল। একটা ছেলে, বোধহয় বছর পাঁচেক তার বয়স, সে হি-হি করে হেসে উঠল, আর গাড়ির গায়ে হাত লাগিয়েই দাঁড়িয়ে রইল।
অমরবাবু ভাবলেন তাকে ধরে এক চড় বসিয়ে দেন। কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সম্বরণ করলেন। বললেন, “এবারে যাওয়া যাক। এখানে থেকে কোনও লাভ নেই।”

অবিনাশ ভদ্র বললেন, “আপনাদের জন্য চা একটু – এই প্রথম এলেন … হয়েই গেছে তৈরি প্রায়।”
অমরবাবু বললেন, “এখন সময় নেই মশাই, ছেলের খোঁজ করতে এখন সারা কলকাতা চষতে হবে। পুলিশকে এখনও জানানো হয়নি…। শ্যামলের খোঁজ পেলে আমার বাড়িতে একবার জানাবেন। আমার ফোন নম্বরটা লিখে নিন, আমি জানতাম না আমার ছেলের আপনার ছেলের সঙ্গে এমন দহরম-মহরম।”
ভাবটা এই যে, জানতে পারলে তিনি দারুণ এক ব্যবস্থা নিতেন।
এমন সময় তাঁর বাঁ হাতে হঠাৎ ভিজে-ভিজে কী যেন লাগাতে তিনি চমকে লাফিয়ে উঠলেন। দেখলেন কালো রঙের একটা সামান্য, অতি সাধারণ কুকুর একটু বন্ধুত্ব দেখানোর জন্যই তাঁর হাত চেটে দিয়েছে!

Bhison Bipod pdf download link
Download/ Read Online

Be the first to comment

Leave a Reply