বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf – হিমানীশ গোস্বামী Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf – Himanish Goswami

বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf - হিমানীশ গোস্বামী Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf - Himanish Goswami
বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf - হিমানীশ গোস্বামী Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf - Himanish Goswami

হিমানীশ গোস্বামীর Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf ডাউনলোড করুন ও Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf পড়ুন।

বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf - হিমানীশ গোস্বামী Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf - Himanish Goswami
বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf – হিমানীশ গোস্বামী Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf – Himanish Goswami

Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব pdf সূচিপত্র

ভুতের সঙ্গে কিছুক্ষণ ৯
তেপান্তরের রহস্যময় কাহিনী ১৭
স্কেলিটন হােটেল ও গর্ডন সাহেব ৩২
ভূতরামের ভূত ৪৮
রামকিঙ্করবাবুর অদ্ভুত ভাড়াটে ৫৯
ভূতের ওঝার বিষম বিপদ ৭৫
বড় গোঁসাইয়ের বন্ধুবান্ধব ৯০
আধা-তেপান্তরের অদ্ভুত কাহিনী ১০৭
রঘু ভট্টকে বাঁচিয়ে রাখা ১২৩
সর্বভূতেষু পুরস্কারের নেপথ্যে ১৩২
হলুদ কুঠির বাসিন্দারা ১৫১

Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf নমুনাঃ

ভূতেদের গরিবের সংসার। চার পাঁচটা ছেলেমেয়ে সারারাত হই হল্লা করে বেড়ায়। বড় ভূতের কথা শোনে না। ভুতদের বাবা বেগার খাটে। সামান্য কিছু তাতে রোজগার। তাতে সকলের পেট ভরে না। গরিব হলেও তার বড় সংসার। আঁধারি গ্রামের বড় জমিদার ছিলেন সুনন্দলাল চৌধুরী। একবার এই বিষ্ণুপুরের খালে ডুবে অপঘাতে মরার পর থেকেই তিনি ভূত হয়ে এই অঞ্চলে বহু বছর রাজত্ব করে গেছেন। তাঁর চেহারা ছিল একেবারে তালগাছের মতো। কথাটা অবশ্য তাঁরই ছেলে ঘেঁচুছাই বলেছিলেন। সেও অনেকদিন হয়ে গেল। ঘেঁচুছাইয়ের কথাটা অবশ্য মিথ্যে নাও হতে পারে।

পেত্নীদের নিন্দে করা এক স্বভাব। কারও ভাল দেখতে পারে না। এমনকী নিচুশ্রেণীর কন্দকাটাদেরও হিংসে করে। আমি একবার এক আশ্রয়হীন কিশোর বয়সের কন্দকাটাকে দয়া করে কাজ দিয়েছিলাম আমার বাড়িতে। কন্দকাটা বেচারার কী কষ্ট হত। তাকে দিয়ে কিছু করানোর ইচ্ছেও আমার ছিল না। বলেছিলাম আমাদের বাড়িতে থাক তুই, আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু তাই বলে আমরা হৃদয়হীন নই। আমরাও যা খাব তুইও তাই খাবি।
তা কন্দকাটা ছেলেটি আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় কেঁদে ফেলল। তবে বলল, না ঘেঁচুকাকু আমি তা পারব না। আমি না খেয়ে মরে যাব তাতেও আপত্তি নেই। মরে আলকাতরা হয়ে যাব, কিন্তু তাও আপনাদের বাড়িতে বেকার থেকে বোঝা বাড়াব না। কন্দকাটাটি ভারী সৎ আর ভাল ভূত ছিল। ছিল আত্মসম্মানও। আমাদের বাড়ির কিছু কিছু কাজ করত। যেমন কোথাও কিছু পরিষ্কার দেখলেই সে সঙ্গে সঙ্গে অপরিষ্কার করে রাখত। একটুও বলতে হত না।
নোংরা করার খুব কায়দাও জানত। কখনও মনে হত না ও কন্দকাটাদের একজন। মনে হত ও খুব উঁচু বংশের। তা এক রাতে আমরা কোথায় যেন গিয়েছি। বোধহয় শ্যাওলা গাঁয়ের বঙ্কিম আতার বাড়িতে ভয় দেখাতে। তা সেখানে ভয় দেখানোর বেগার ছিল আমার অনেকদিন থেকেই। জায়গাটা দুরে বলে যাওয়াটা হচ্ছিল না। বেগার না খাটলে ভূত সমাজে খুব নিন্দে হয়। কেন না দু-একটা বিশেষ ভূত ছাড়া প্রত্যেক ভূতকে কিছু না কিছু বছরের জন্য বেগার খাটতেই হয়। ভয় দেখানোটাও আমাদের প্রথার মধ্যে পড়ে। যে সব চেয়ে ভাল ভয় দেখাতে পারে তাকে প্রত্যেক বছরে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। তা ছাড়া ভয় দেখানোর মধ্যে একটা আনন্দ তো আছেই।
ঘেঁচুপোড়া বলেই চলেছেন একেবারে না থেমে। আজ যেন তাঁকে কথায় পেয়েছে। ক্যামেরা থাকলে এখন কিছু ছবি তুলে নেওয়া যেত আর তা অনেক দামেই বিক্রি করা যেত। কেন না পৃথিবীতে কোটি কোটি লোকের ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এবং কোটি কোটি ভূত থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কেউ কোনও ভূতের ছবি তুলতে পারেনি। আজকাল ভুত বৈজ্ঞানিকেরা ভারী শক্তিশালী ক্যাপসুল বার করেছে। এক একটি ক্যাপসুল খেয়ে নিলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্যদের দেখা যায়। দশ কি বারোদিন পর্যন্ত অদৃশ্যরা দৃশ্যমান থাকে। তবে এইসব ক্যাপসুলের এমনই দাম যে খুব ধনী ভূত ছাড়া কেউই তা ব্যবহার করতে পারে না।
আমি ঘেঁচুপোড়াকে বললাম, ‘এটা কি ঠিক হচ্ছে? মানে ভূতেরা অদৃশ্য থাকাই তো ভাল, তাই নয় কি?’
ঘেঁচুপোড়া বললেন, সে কথা তো ঊননব্বুই বার সত্যি। এখানে ভাই তোমাকে একটা কথা বলে রাখি, মানুষেরা হলে বলত একশোবার সত্যি, কিন্তু ভূতদের একশো বলতে নেই। সাধারণ ভূতদের নিরানব্বই পর্যন্ত হিসেব করার অধিকার আছে। এরা কখনওই একশো কিংবা একশোর বেশি গুনতে পারে না। বলতেও পারে না। তবে বড় জাতের ভূতেরা যে যেমন খুশি সংখ্যা বলতে পারে। তা হলে কেমন করে ভূতেরা একশোর বেশি বোঝাতে পারে? আমি প্রশ্ন করেছিলাম ঘেঁচুপোড়াকে। কিছুমাত্র ইতস্তত না করে ঘেঁচুপোড়া বললেন, ‘খুব সহজেই, যেমন ধরো…।’
এরপর আমার কানের কাছে ফিস ফিস করে বললেন, ‘কে আবার শুনে ফেলবে বলা যায় না। চারিদিকে সব চর ঘুরছে। ধরো তুমি দু’হাজার চারশো কুড়ি বলতে চাও। তা হলে বলবে আশিকে ত্রিশ দিয়ে গুণ করে কুড়ি যোগ করো।”
আমি বললাম, ‘এতে তো ভারী অসুবিধা হবার কথা!
‘হয়ই তো অসুবিধা। বিশেষ করে যে সব ভূত লেখা পড়া জানে না, তাদের তো চালাক আর শয়তান ভূতেরা ঠকায়। যদিও আমার উচ্চবংশ, কিন্তু এই আর কি একটু গরিব হয়ে পড়েছি বলে সমাজে বড় অপমানিত হতে হয়। ছেলে-মেয়েগুলোকে যে ইস্কুলে দেব, তারও উপায় দেখি না। একেবারে বয়ে যাচ্ছে। আমি খবর পাচ্ছি ওরা নাকি দিনের বেলাতেও বেরোয়। এটাযে ভূত সমাজের কত বড় কলঙ্কের কথা তা আর কী বলব।’
Boro Gosaiyer Bondhubandhob pdf download link
Download / Read Online

Be the first to comment

Leave a Reply