চক্রসম্বরের পুঁথি pdf – অভীক সরকার Chakrasambarer Punthi pdf – Aveek Sarker

চক্রসম্বরের পুঁথি pdf - অভীক সরকার Chakrasambarer Punthi pdf - Aveek Sarker
চক্রসম্বরের পুঁথি pdf - অভীক সরকার Chakrasambarer Punthi pdf - Aveek Sarker

অভীক সরকারের Chakrasambarer Punthi pdf চক্রসম্বরের পুঁথি pdf ডাউনলোড করুন ও Chakrasambarer Punthi pdf পড়ুন।

চক্রসম্বরের পুঁথি pdf - অভীক সরকার Chakrasambarer Punthi pdf - Aveek Sarker
চক্রসম্বরের পুঁথি pdf – অভীক সরকার Chakrasambarer Punthi pdf – Aveek Sarker

Chakrasambarer Punthi pdf চক্রসম্বরের পুঁথি pdf রিভিউঃ

তাপস কে তার এক জেঠু হঠাৎ করে ফোন করেন তিনি বিপদে আছেন। তাপসকে যাওয়ার জন্যে বলেন। তাপসের সাথে তার বন্ধু ও যায়। দার্জিলিংয়ের কাছে লেবং এ নারান জেঠুর বাংলোয় গিয়ে এক প্রাচীন পুঁথির সন্ধান পায় তারা। কেনো এই পুঁথি টা এতো উল্লেখযোগ্য? ওরা দুজন যাবার পর পর একজন খুন হয়। কে আছে এই খুনের নৈপথ্যে? জেঠুর পরিচিত দত্ত বাবুর আসল উদ্দেশ্যই বা কী? প্রফেসর যাদব কে? এরমধ্যেই একদিন জেঠুর অন্তর্ধান হয়ে যায়। আর ইন্সপেক্টর গুরুং এই লোকটাই বা হঠাৎ করে কেনো প্রফেসর যাদবের সাথে এত পরিচিত হলেন? দেবাশীষ বাবু কি সত্যি কিউরিও শপের দোকানের মালিক নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দার্জিলিঙে এসেছেন? এই দুই বন্ধু কি পারবে পুঁথি টা খুঁজতে? এই প্রশ্নগুলো জানতে হলে পড়তে হবে এই বইটি।

গল্পতে টানটান ব্যাপারটা কম, কয়েকটা জায়গায় হালকা অসঙ্গতি লেগেছে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৭/১০

Chakrasambarer Punthi pdf চক্রসম্বরের পুঁথি pdf নমুনাঃ

সেবারে পুজোয় ষষ্ঠীর দিনই একপশলা ঝড়বৃষ্টি হয়ে পুজোর প্রায় দফারফা। আমাদের সবারই তো মাথায় হাত। বছরে এই একটামাত্র সময়েই নিয়মকানুনের বাইরে গিয়ে একটু ফূর্তিবার্তা করার পারমিশন থাকে। সে-সব ভেস্তে গেলে কারই বা আনন্দ হয়? তা বাড়িতে বসে থেকে থেকে বেজায় মন খারাপ, মায়ের হাতের অমন চমৎকার পরোটা আর ঘুগনি অবধি পানসে লাগছে, এমন সময় তাপসের ফোন।

তাপস হচ্ছে আমার এক খুড়তুতো ভাইয়ের বন্ধু। আমি তখন আশুতোষ কলেজে সেকেণ্ড ইয়ারে পড়ি, ফিজিক্স অনার্স। কোনও একটা কলেজ ফেস্টেই আমার আলাপ তাপসের সঙ্গে, সে আলাপ বন্ধুত্বে গড়াতে দেরি হয়নি বেশি। ছোটখাটো চেহারার হাসিখুশি ছেলে ছিল তাপস, পড়াশুনোয় তুখোড়। অঙ্কে পরিষ্কার মাথা, ধাঁধা আর রুবিক কিউব সলভ করতো প্রায় তুড়ি মেরে। নানাধরণের তাসের ম্যাজিকও দেখাতো চমৎকার।

অজানা দ্বীপে ড্রাগন pdf – স্বপন কুমার Ajana Dwipe Dragon pdf – Swapan Kumar

সে যাই হোক, পরের দিন সকালে তাপস এসে হাজির। মা তো তাপসকে খুবই স্নেহ করতেন। তিনিও অনেকদিন পর ওকে দেখতে পেয়ে খুব খুশি। একগাদা কুশল মঙ্গল ইত্যাদির পর সে ছোকরা সোফায় একটু থিতু হয়ে বসতেই প্রশ্ন করলাম, “বল ভাই, কী ব্যাপার। কাল তো তোর ফোন শুনে কিছুই বুঝলাম না। শুধু এটুকু বুঝলাম, কী একটা ব্যাপারে আমার সাহায্য চাই তোর। এবার বল তো, তোর মতো এমন চৌখস ছেলের আবার আমার সাহায্য দরকার পড়লো কেন?”

জবাবে তাপস যেটা বললো সেটা যেমনই অদ্ভুত, তেমনই আশ্চর্যজনক।

তাপসের এক দূরসম্পর্কের জ্যাঠা থাকতেন দার্জিলিং-এ। রক্তের সম্পর্কের কেউ না, তাপসের বাবার গ্রামতুতো দাদা। কলকাতার কোনও একটা বয়েজ স্কুলের হিস্ট্রির টিচার ছিলেন এককালে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর অগাধ জ্ঞান। বিদেশের কোন জার্নালে নাকি পেপার টেপারও বেরিয়েছিলো এক-দু’বার। ভদ্রলোকের তিনকুলে কেউ নেই, বিয়েশাদির ঝামেলায় যাননি, বুড়ি মা-কে নিয়ে কাঁকুড়গাছির কাছে একটা অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন। তাপসের বাবা তাঁর এই আধপাগল গ্রামতুতো দাদাকে একটু শ্রদ্ধাভক্তি করতেন। বাড়িতে প্রায়ই যাওয়া আসা ছিল। সেই সূত্রে উনি তাপসকে ভাইপো বলতেন, তাপস ও চিরকাল এঁকে নারাণজ্যেঠু বলে ডেকে এসেছে।

মা মারা যাওয়ার পর পরই কেমন যেন বিবাগী হয়ে যান মানুষটা, তাপসের ভাষায় ন্যালাখ্যাপা। হুট করে চাকরিটা ছেড়ে দেন, তখনও ওঁর রিটায়ার করতে বছর দশেক বাকি। এককালের ডাকসাইটে নাস্তিক ভদ্রলোক নাকি তখন প্রায়ই বেনারস, কাঞ্চী, কামাখ্যা, কেদারনাথ এ-সব করে বেড়াতেন। শেষদিকটায় নাকি তন্ত্রমন্ত্র ইত্যাদির দিকেও ঝুঁকেছিলেন। তা-ও আবার দেশি কিছু না, খাস টিবেটান তান্ত্রিক পদ্ধতি! ভদ্রলোক শেষমেশ বছর সাতেক আগে

হঠাৎ করে কলকাতার বাড়িটাড়ি বেচে নিয়ে দার্জিলিং-এ গিয়ে থিতু হন। আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবরা অনেক মানা করেছিলেন বটে, কিন্তু শোনেননি। সেই যে গেলেন, তারপর থেকে নো খবর, নো পাত্তা। মাঝে মাঝে এই তাপসই দেখতে যেতো তার জেঠুকে, ওর সঙ্গেই যা একটু যোগাযোগ ছিল ভদ্রলোকের। ভদ্রলোক নিজেও দেশের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না। ফলে যা হয় আর কি, লোকে মোটামুটি ভুলেই গেছিল নরনারায়ণ ভট্টাচার্যকে।

তাপস বলল গতকাল সকালে নাকি ভদ্রলোক তাপসকে ফোন করেন। এবং হ্যালো বলার পরেই নাকি নরনারায়ণবাবু ওকে আর বেশি কিছু বলার সুযোগ দেননি, কোনও ভণিতা না করে বলেন যে উনি একটা বিপদের আঁচ পাচ্ছেন। তাপস পারলে যেন চট করে একবার দার্জিলিং-এ চলে আসে

তাপস ভারি আশ্চর্য হয়েছে। কারণ নারাণজ্যেঠু এমনিতে যেমন ধীরস্থির, আবার দরকার পড়লে তেমনই ডেয়ারডেভিল গোছের লোক। দুষ্প্রাপ্য পুঁথি আর মূর্তির খোঁজে কাঁহা কাঁহা মুল্লুক চলে যেতেন একাই। একবার খিদিরপুর না রাজাবাজার কোথায় যেন গুণ্ডারা কোনও একটা দামী মুদ্রার খোঁজে তাঁর ওপর হামলা করে। ব্যাটাচ্ছেলেগুলো বিশেষ সুবিধা করতে পারেইনি, উলটে নারায়ণজ্যেঠুই ইট মেরে দুটোর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। এহেন শক্তপোক্ত লোকই ফোন করে বিপদের তার সাহায্য চাইছেন দেখে ভারি অবাক হয়েছে সে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “বিপদটা কী রকম আর কীসের সাহায্য চাইছেন উনি সেটা বলেছেন?”

তাপস জানায় যে পুরোটা খুলে বলেননি না জ্যেঠু। শুধু বোঝা গেছে যে তাঁর ধারণা হয়েছে তাঁর প্রাণ বেজায় বিপয়া, কেউ বা কারা জ্যেঠুর পেছনে নাকি উঠে পড়ে লেগেছে। তারা নাকি খুবই সাঙ্ঘাতিক মানুষ, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে দু-চারটে খুন জখম করা ওদের পক্ষে জলভাত। নারাণজ্যেঠু এ-ও বলেন যে তিনি মরতে ভয় পান না। কিন্তু দৈবাৎ তাঁর হাতে এমন একটা জিনিস এসেছে যার ঐতিহাসিক মূল্য অসীম, টাকাকড়িতে তার পরিমাপ হওয়া সম্ভব নয়। যারা জ্যেঠুর পেছনে পড়েছে তারা চায় এটা যেন কিছুতেই প্রকাশ না পায়, তাতে ওদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেটা হারিয়ে গেলে নাকি বাংলা ভাষার ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হাতছাড়া হয়ে যাবে। আর সেটা জ্যেঠু কিছুতেই হতে দিতে পারেন না।

Chakrasambarer Punthi pdf চক্রসম্বরের পুঁথি pdf download link

Download / Read Online

Be the first to comment

Leave a Reply