চৌধুরী বাড়ির রহস্য – অভিরূপ সরকার Chowdhury Barir Rohosso by Abhirup Sarkar

চৌধুরী বাড়ির রহস্য - অভিরূপ সরকার Chowdhury Barir Rohosso by Abhirup Sarkar
চৌধুরী বাড়ির রহস্য - অভিরূপ সরকার Chowdhury Barir Rohosso by Abhirup Sarkar

অভিরূপ সরকারের পশ্চিমবঙ্গের হরর থ্রিলার গোয়েন্দা সিরিজ চৌধুরী বাড়ির রহস্য Chowdhury Barir Rohosso pdf ডাউনলোড করুন ও চৌধুরী বাড়ির রহস্য Chowdhury Barir Rohosso pdf পড়ুন।

চৌধুরী বাড়ির রহস্য - অভিরূপ সরকার Chowdhury Barir Rohosso by Abhirup Sarkar
চৌধুরী বাড়ির রহস্য – অভিরূপ সরকার Chowdhury Barir Rohosso by Abhirup Sarkar

চৌধুরী বাড়ির রহস্য Chowdhury Barir Rohosso pdf রিভিউঃ

অভিরূপ সরকারের লেখা বই প্রথমবার পড়ছি। একটু ইতস্তত ভাব নিয়েই শুরু করেছিলাম।বেশ ঝরঝরে ভাষা, গল্পের গতিও মন্দ না। তবে প্লটে তত নতুনত্ব নেই। গোয়েন্দা চরিত্রেটিও বেশ ছকে বাঁধা- ঠিক সময়ে ঠিক মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়, যার কাছে যা জানতে চাওয়া হয়, সবাই বলে দেয় , এরকম বেশ কিছু গতানুগতিক ব্যাপার আছে। সহ চরিত্রগুলোর আরেকটু গভীরতা আশা করেছিলাম। কাহিনী হিসেবে সুখপাঠ্য তবে আশা করব ভবিষ্যতে আরও ভাল মানের লেখা অভিরূপ সরকারের কলমে পাব। এক শাস্ত্রীয় সংগীত প্রেমী গোয়েন্দার গল্প। বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মতো। ইংরিজিতে যাকে slow burn বলে। চৌধুরী বাড়ির রহস্য, চন্দ্রলেখা অন্তর্ধান রহস্য, কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্যতিনটি বই অনুক্রমিকভাবে পড়লে ভালো লাগবে।

বর্মার অন্ধকারে pdf – শিশির বিশ্বাস Burmar Ondhokare pdf – Sisir Biswas

কারণ মূল চরিত্রের জীবনের পরিবর্তনগুলো বেশ ভালো ভাবে লেখক দেখিয়েছেন। চৌধুরী বাড়ির রহস্য, চন্দ্রলেখা অন্তর্ধান রহস্য, কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য তিনটি বইয়ের ক্ষেত্রেই রহস্য জমতে সময় লাগে এবং ধীরে ধীরে জট খোলার ঘটনাও বেশ ভালো। আমার ভালো লেগেছে।

চৌধুরী বাড়ির রহস্য Chowdhury Barir Rohosso pdf নমুনাঃ

মন্টুবাবুর ফোনটা অনেকক্ষণ বেজে যাচ্ছে। হয়তো রাস্তায় আছেন তাই শুনতে পাচ্ছেন না। আদিত্য একটা মেসেজ করল, আমি সন্ধে সাতটা অব্দি আমার আপিসে আছি। একবার আসুন। খুব জরুরি দরকার।’ তারপর মোবাইলে অমিতাভর নম্বরটা লাগাল। এই ফোনটা আবার সুইচড অফ। ক্লাসে আছে নাকি? আদিত্য ঘড়ি দেখল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা। এতক্ষণ তো ক্লাস হবার কথা নয়। ফোনটা বেজে বেজে থেমে যাবার পর আদিত্য রত্নার নম্বরটা লাগাতেই ওপার থেকে কলকাকলি শোনা গেল, ‘একি টেলিপ্যাথি নাকি রে? এইমাত্র তোকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম।’
‘আমাকে? কেন ?”

বৃহস্পতিবার রাত্তিরে গৌতম আর ওর বউ মালিনীকে ডিনারে ডেকেছি। অমিতাভকে বললাম তোকে খবর দিতে। তুই না থাকলে ডিনার জমবেই না। তো আমার কর্তার সময়ই হচ্ছে না তোকে জানানোর। আজ সারাদিন ফোন বন্ধ করে গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে মল্লার ফেস্টিভাল শুনছে।
ও হ্যাঁ, কাল অমিতাভ বলছিল বটে গান শুনতে যাবে। তা তোদের সঙ্গে গতকাল দেখা হল তখন তো ডিনারের কথা কিছু বললি না?’

কী করে বলব? আজ সকালে শুনলাম মালিনী কলকাতায় এসেছে। দুতিন দিন থাকবে। শুনে ওদের খেতে বললাম। অমিতাভ বলল, তোকে জানিয়ে দেবে। হয়ত রাত্তিরে ফোন করত। আমি তার আগেই জানিয়ে দিলাম। তুই আসতে পারবি তো?
“অবশ্যই পারব। গৌতমের সঙ্গে আমার খুব দরকার। তোদের বাড়িতে গিয়ে রথ দেখা কলা বেচা দু’টোই সেরে নেব। তবে মালিনী থাকলে চোয়াল ব্যথা করে ইংরিজি বলতে হবে। একটু ভাল খাবার-দাবার রাখিস। নইলে পোষাবে না।’
“খাবার ভালোই থাকবে। তবে আজকাল মালিনী বেশ বাংলা বুঝতে পারে। বলতেও পারে একটু একটু। তোর চোয়াল ব্যথা হবে না।’
‘দেখা যাক।’

ফোনটা পকেটে পুরে আদিত্য শ্যামলের খোঁজে আপিস ঘরের বাইরে এল। কোথায় শ্যামল? সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে দেখল গেটের সামনে টুলের ওপর শ্যামল বসে আছে।
‘তোমার সঙ্গে কথা ছিল, একবার ওপরে আসবে? আর হ্যাঁ, আসার সময় একটু চা এনো।’ আদিত্য শ্যামলকে একটা দশ টাকার নোট এগিয়ে দিল।
শ্যামল চা ঢালছিল। আদিত্য সিগারেট ধরিয়ে বলল, “গতকাল তোমার কাছে কি কেউ আমার খোঁজ করছিল?”

“হ্যাঁ একজন ছোকরা মতো বাবু আপনার কথা জিজ্ঞেস করছিল। বলল, আদিত্যবাবুকে খুব দরকার। আমি ভাবলাম কোনও মক্কেল হবেন। আপনার আপিস ঘরটা দেখতে চাইলেন। আমি বললাম আজ রবিবার সব বন্ধ, তবু শুনল না। দোতলায় উঠে আপনার নেমপ্লেট দেখে জিজ্ঞেস করলেন আপনার মক্কেল-টক্কেল কেমন হয়। আগের দিন যে একজন বাবু এসেছিল আমি তেনার কথা বললাম। সেই মক্কেলের কথা খুঁটিয়ে খুটিয়ে জিজ্ঞেস করল। তারপর চলে গেল।”
‘তোমায় কিছু বকশিস দিয়ে গেল নিশ্চয়।
“তা, হ্যাঁ, মানে ভালোই বকশিস দিল। সেদিন যে কার মুখ দেখে উঠেছিলুম।’
‘ঠিক আছে, তুমি এখন যেতে পার।’

আদিত্য ভাবছে। সকাল থেকে অনেক ঘটনা ঘটল। মনে হচ্ছে ভূতুড়ে টেলিফোন রহস্যের কিনারা হয়ে গেছে। আর কিছু বোঝবার নেই। সত্যিই কি আর কিছু বোঝবার নেই? হয়তো নেই, তবু কোথায় যেন একটা খটকা থেকে যাচ্ছে। অথচ খটকাটা যে কোথায় আদিত্য কিছুতেই ধরতে পারছে না। আদিত্যর মুস্কিল হল সে খুব তাড়াতাড়ি কিছু ভাবতে পারে না। তবে একটা ভাবনা নিয়ে অনেকদিন লেগে থাকতে পারে। তার বন্ধু অমিতাভ বলে এটা খাঁটি গবেষকের গুণ। ভাগ্যের দোষে আদিত্য গবেষণার বদলে গোয়েন্দাগিরিতে নেমেছে।

ফোনটা বেজেই থেমে গেল। বিমল মিসড কল দিয়েছে। মানে ফোন করতে বলছে। আদিত্য বিমলের নম্বরটা ডায়াল করল।
‘দু’টো জিনিস জানানোর ছিল স্যার। দরকারি কিনা বুঝতে পারছি না, তবু ভাবলাম জানিয়ে রাখি।’ বিমলের গলায় একটু কিন্তু কিন্তু ভাব।
‘বল।’
মন্টুবাবুর পাশের বাড়িতে এক ভদ্রলোক থাকেন। রামানুজ না কি যেন একটা নাম। ভদ্রলোক একটু অদ্ভুত আছেন। রাতবিরেতে পাড়া বেড়াতে বের হন। পোড়ো কারখানাটাতেও রাত্তির বেলা ঢুকতে দেখেছি। অত রাত্তিরে ওইসব জায়গায় কী করেন বলা মুস্কিল।
আর কি জানলে?’

“আজ আবার সেই শালাবাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বোনের কাছে এসেছিলেন। রাস্তায় হঠাৎ দেখা। চা খাওয়ালাম। কথায় কথায় বললেন, মন্টুবাবুর আর একটা বাড়ি আছে। বাড়িটা ঠিক কোথায় শালাবাবু জানেন না। সম্ভবত পাইকপাড়ার দিকে কোথাও। মন্টুবাবুর এক বিধবা শালী একসময় সেখানে থাকতেন। শালাবাবু বলছিলেন, বড়লোকদের কত সুবিধে ভাবুন। একটা বাড়ি ফাঁকাই পড়ে আছে। ইচ্ছে হল, কিছুদিন শালীকে সেখানে থাকতে দিলেন। আবার ইচ্ছে হল কিছুদিন ফাঁকা ফেলে রাখলেন।
সুশান্ত আর দেবীর গতিবিধি কেমন?”

“ওরা তো দোকান থেকে বেরোয়ই না স্যার। আমি দোকানের উল্টোদিকে একটা গাছের আড়ালে টানা আট-নয় ঘণ্টা কাটালাম। ওদের তো একবারের জন্যেও বেরোতে দেখলাম না।’
‘শোনো, তোমার পেছনে টিকটিকি লেগেছিল। তুমি ধরা পড়ে গেছ। তোমার পেছন পেছন এসে সুশান্তর লোক আমারও বাড়ি, আপিস সব চিনে নিয়েছে। আর তোমার ওই পাড়ায় যাবার দরকার নেই।

ওপারে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর বিমলের গলাটা প্রায় হাহাকারের মতো শোনাল, ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না স্যার। আমার পেছনে কী করে টিকটিকি লাগবে? আমি এই ধরনের কাজ আগেও তো করেছি। কখনও এরকম হয়নি। আমি আগাগোড়া ভীষণ সাবধান ছিলাম স্যার। আপনি তো সাবধান হতেই বলে দিয়েছিলেন। আমি আপনাকে খুব বিপদে ফেললাম। কী বলব বুঝতে পারছি না।’

অভিরূপ সরকারের পশ্চিমবঙ্গের হরর থ্রিলার গোয়েন্দা সিরিজ চৌধুরী বাড়ির রহস্য Chowdhury Barir Rohosso pdf পড়ুন এখান থেকে।

Be the first to comment

Leave a Reply