এপার ওপার pdf – রূপক সাহা Epar Opar pdf – Rupak Saha

এপার ওপার pdf - রূপক সাহা Epar Opar pdf - Rupak Saha
এপার ওপার pdf - রূপক সাহা Epar Opar pdf - Rupak Saha

রূপক সাহার সমকালীন উপন্যাস Epar Opar pdf এপার ওপার pdf ডাউনলোড করুন ও Epar Opar pdf এপার ওপার pdf পড়ুন।

এপার ওপার pdf - রূপক সাহা Epar Opar pdf - Rupak Saha
এপার ওপার pdf – রূপক সাহা Epar Opar pdf – Rupak Saha

Epar Opar pdf এপার ওপার pdf নমুনাঃ

জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের ভিতরেই সেটা টের পাচ্ছিল পাণ্ডু। বাইরে বেরতেই ঠান্ডা বাতাস এসে ওর মুখে ঝাপটা মারল। ডাক্তারদের চেম্বার প্রায় একশো গজ দূরে। অন্যদিন করিডোর দিয়ে স্বচ্ছন্দে হেঁটে ও চেম্বারে চলে যায়। নাইট ডিউটি থাকলে অন্তত বার কয়েক তো ওকে বেরোতেই হয় রোগীদের দেখার জন্য। কিন্তু আজ করিডোরের এক পাশে বেশ কয়েকজন অসুস্থ মানুষ কম্বল গায়ে কুঁকড়ে শুয়ে আছে। সকাল থেকে একের পর এক রোগী এসেছে। দুপুরের মধ্যে বেড সব ভর্তি। জায়গা দিতে না পেরে সুপার সাহেব শেষ পর্যন্ত কুড়ি-বাইশ জনকে করিডোরে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁদের অনেককে স্যালাইন দিতে হচ্ছে।

কাল রাতে আদিবাসীদের মহল্লায় কী যেন একটা পরব ছিল। ডিউটি করতে এসে পাণ্ডু অনেক রাত পর্যন্ত মাদলের শব্দ শুনেছে। পরবে সারা রাত্তির ধরে নাচ গান চলে। চোলাই মদ খেয়ে চুর হয়ে থাকে মরদগুলো। মদে বোধ হয় বিষাক্ত কিছু মেশানো ছিল। সকাল থেকে অর্ধচেতন মরদগুলোকে নিয়ে এসে ভর্তি করছে তাদের পরিবারের লোকজন। দুপুরে পাণ্ডু শুনেছে, একজন ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে। মা-বউদের কান্নার রোল হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসেই শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিকেলের দিকে জেলার হেল্থ অফিসার একবার হাসপাতাল ঘুরে গিয়েছেন। বলে গিয়েছেন, চিকিৎসার যেন কোনও ত্রুটি না হয়।

করিডোরের দু’পাশটা কাল পর্যন্ত ফাঁকা ছিল। ঠান্ডায় যাতে রোগীরা কষ্ট না পায়, তার জন্য আজ তেরপল দিয়ে খানিকটা অংশ ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন সুপার সাহেব। তাই কনকনে ভাবটা নেই। মাফলারটা গলায় ভালোভাবে জড়িয়ে করিডোর দিয়ে খুব সাবধানে হাঁটতে লাগল পাণ্ডু। যাতে কোনও রোগীর গায়ে পা না লাগে। রাত প্রায় দশটা বাজে। পুরো হাসপাতাল এখন নিঝুম পুরী। আজকাল সন্ধে সাতটা থেকেই অবশ্য পুরো হাসপাতাল চত্বর শুনশান হয়ে যায়। কেননা, তার পর বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। মেন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে কিছুদিন আগে রাতের দিকে দু’টো বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এক. রোগিনীর উপর বলাৎকার। দুই, প্রসূতি বিভাগ থেকে সদ্যোজাত শিশু চুরি। তার পর থেকে সুপার সাহেব অনেক সাবধান হয়ে গিয়েছেন। নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছেন।

করিডোরে হলুদ আলোর বাল্ব লাগানো রয়েছে বেশ খানিকটা তফাতে। আলোগুলো সিলিং থেকে ঝুলছে। হাওয়ায় দুলছে বলে করিডোরে আলো-ছায়ার খেলা দেখতে পেল পাণ্ডু। নোনাধরা দেওয়াল। তার উপর চুনকাম করা। কত রহস্যময় আঁকিবুকি তাতে। হাসপাতালটা সেই ইংরেজ আমলের। প্রায় একশো বছরের পুরোনো। কুড়ি একর জমির উপর তৈরি। গোটা ছয়েক বড়ো বড়ো ওয়ার্ড। সেই সাঙ্গে ডাক্তার আর নার্সদের আলাদা কোয়ার্টার। পুরো হাসপাতাল চত্বর গাছ-গাছালিতে ভর্তি। মাইল দেড়েক দূরে বড়ো রেলওয়ে জংশন। ইংরেজরা নাকি এই শিসপাহাড়ি জায়গাটাকে এই কারণেই বেছে নিয়েছিলেন হাসপাতালের জন্য। যাতে ট্রেনে করে ওড়িশার নানা প্রান্ত থেকে পেশেন্ট আসতে পারে।

সর্বনাশিনী pdf – সায়ন্তনী পূততুন্ড Sarbanashini pdf – Sayantani Putatunda best pdf

মেদিনীপুর সদর হাসপাতাল থেকে পাণ্ডু যখন প্রথম এখানে আসে, তখন ওর কান্না পেত। সন্ধের পর এত নির্জন জায়গাটা। কিন্তু, এখন ও অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। ও ঠিক করেছে, যতদিন চাকরি করবে এই শিসপাহাড়িতেই থাকবে। যাবেই বা আর কোথায়! সাত কুলে কেউ নেই। বিধবা মা ওকে মানুষ করেছিলেন। মেদিনীপুরে থাকার সময়ই তিন দিনের জ্বরে তিনি মারা যান। সত্যি কথা বলতে কী, মা চলে যাওয়ার পর মেদিনীপুরে আর মন টেকেনি পাণ্ডুর। নিজেই তদবির করে এমন একটা হাসপাতালে চলে এসেছে, যেখানে কেউ বদলি হয়েও আসতে চায় না। শিসপাহাড়ির নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে। জনবিরল জায়গা, তবে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি আছে শিসপাহাড়িতে। স্থানীয় আদিবাসীরা পুজো করেন শিসদেবতাকে।

তাঁর দাপটেই নাকি এখানকার জনজীবন নিস্তরঙ্গ। পাণ্ডুর ধারণা, শিসদেবতা শিলপাহাড়িতে যাকে তাকে ঠাই দেন না। তাঁর পছন্দের লোক ছাড়া। করিডোরের শেষ প্রান্তে পৌঁছেই পাণ্ডু দেখল, সিস্টার ফুলমণি দ্রুত পায়ে হেঁটে আসছেন। হাসপাতালের সিনিয়র নার্স, বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। কিন্তু দেখে মনে হয়, পঁয়তাল্লিশ। মুখোমুখি হতেই সিস্টার ফুলমণি বললেন, ‘তুর খোঁজেই সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে যাইনছিলাম ডাগদার।
ফুলমণির চোখ মুখে উদ্বেগ। সেটা লক্ষ করে পাণ্ডু বলল, ‘কী হয়েছে সিস্টার?’ ‘একবার ইমার্জেন্সিতে যিতি হবেক। পেশেন্ট এসেইনছে। দেখবি চল ক্যানে।’ হাতঘড়ির দিকে পাণ্ডু একবার নজর দিল। এই সময় ইমার্জেন্সিতে থাকার কথা ডাঃ কুন্তী মহাপাত্রর। মেয়েটা ওর থেকে বছর তিনেকের ছোটো।

বছর খানেক আগে ভুবনেশ্বর থেকে এই হাসপাতালে এসেছে। জীবনের দ্বিতীয় চাকরি, খুব সিনসিয়ার অল্প কয়েকদিনের মেলামেশায় পাণ্ডুর ধারণা হয়েছে, মেয়েটা মানুষের সেবা করতেই এসেছে। ফাঁকি দেয় না। পেশেন্টদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করে। সিস্টার ফুলমণিকে ও জিজ্ঞেস করল, ‘ডাঃ কুত্তী ইমাজেন্সিতে নেই?’
“ছিলক। অ্যাবুন কোয়াটারে যেইনছে। তু বাপ কথা বাড়াইস না। ইখনি যা, পেশেন্টের কুন্ডিশন ভালো না। অ্যাক্সিডেন কেস।’

Epar Opar pdf download link
Download / Read Online

Be the first to comment

Leave a Reply