কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য – অভিরূপ সরকার Kumudini Bitto Nigam Rahasya by Abhirup Sarkar

কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য - অভিরূপ সরকার Kumudini Bitto Nigam Rahasya by Abhirup Sarkar
কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য - অভিরূপ সরকার Kumudini Bitto Nigam Rahasya by Abhirup Sarkar

অভিরূপ সরকারের পশ্চিমবঙ্গের হরর থ্রিলার বই কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য Kumudini Bitto Nigam Rahasya pdf ডাউনলোড করুন ও কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য Kumudini Bitto Nigam Rahasya pdf পড়ুন।

কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য - অভিরূপ সরকার Kumudini Bitto Nigam Rahasya by Abhirup Sarkar
কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য – অভিরূপ সরকার Kumudini Bitto Nigam Rahasya by Abhirup Sarkar

কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য Kumudini Bitto Nigam Rahasya pdf Review

এক শাস্ত্রীয় সংগীত প্রেমী গোয়েন্দার গল্প। বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মতো। ইংরিজিতে যাকে slow burn বলে। তিনটি বই অনুক্রমিকভাবে পড়লে ভালো লাগবে। কারণ মূল চরিত্রের জীবনের পরিবর্তনগুলো বেশ ভালো ভাবে লেখক দেখিয়েছেন তিনটি বইয়ের ক্ষেত্রেই রহস্য জমতে সময় লাগে এবং ধীরে ধীরে জট খোলার ঘটনাও বেশ ভালো। আমার ভালো লেগেছে।

রেটিং ৯/১০

কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য Kumudini Bitto Nigam Rahasya pdf নমুনাঃ
দুটো লোক ঘরে ঢুকেছে। একটা লম্বা, একটা বেঁটে।
“আমিই আপনাকে ফোন করেছিলাম, লম্বা লোকটা জানাল। তারপর এগিয়ে আদিত্যর টেবিলের সামনে এসে বলল, ‘বসতে পারি?’
‘বসুন, বসুন। অবশ্যই বসুন। আদিত্য লম্বাকে কথাটা বলে তার সঙ্গের বেঁটে লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনিও বসুন।
লম্বা লোকটা আদিত্যর সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল। হাতের বড় নীল রঙের ব্যাগটা নামিয়ে রাখল পায়ের নিচে। বেঁটে কিন্তু তখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার দিকে তাকিয়ে আদিত্য আবার
বলল, ‘আপনি ‘বসুন।’

আদিত্য বলা সত্ত্বেও বেঁটে লোকটা ঠায় দাঁড়িয়েই রইল। আদিত্যর মনে হল, লম্বা-বেঁটের মধ্যে একটা শ্রেণিবিভাগ আছে। লম্বার পাশে বসার অধিকার বেঁটের নেই। ব্যাপারটা আদিত্যর আগেই বোঝা উচিত ছিল। লম্বা-বেঁটের হাবভাব, পোশাক-আশাক, চেহারা বয়েস সব কিছুই আলাদা। লম্বার পরনে ধোপদুরস্ত ফুলহাতা সাদা শার্ট, গাঢ় রঙের ট্রাউজার। বুক পকেটে পেন গোঁজা। বয়েস, মনে হয়, পঞ্চাশের এদিক-ওদিক। তার বেঁটে সঙ্গী প্যান্ট-টি-শার্ট পরেছে, দুটোই একটু বেশি চকচকে, সস্তার জিনিস যেমন হয়। আদিত্য লক্ষ করল, টি-শার্টটা বাঁ-দিকে বগলের নিচ থেকে সামান্য ফুলে আছে। চট করে চোখে পড়ে না, নজর করে দেখলে বোঝা যায়। বেঁটে লোকটার বয়েস তিরিশের বেশি হবে না।

পথের পাঁচালী pdf – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Pother Pachali pdf – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

একটু আগে শ্যামল চা আনতে গেছে। যাওয়ার সময় দরজাটা ভাল করে বন্ধ করে যায়নি। সেই ভেজানো দরজা ঠেলে লম্বা-বেঁটে দুজনে আদিত্যর আপিসে ঢুকে পড়েছে। একবার নক করে ঢুকবে তো! বেঁটে না হয় লম্বার তল্পিবাহক হয়ে এসেছে, কিন্তু লম্বার তো এইটুকু সহবত জ্ঞান থাকা উচিত ছিল।
“আমার নাম তারক দাস, আমিই আপনাকে ফোন করেছিলাম। লম্বা লোকটা দ্বিতীয়বার মনে করিয়ে দিল। তার সঙ্গীর সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আদৌ প্রয়োজন বোধ করল না সে। বেঁটে লোকটা যেন ঘরে থেকেও নেই।
আদিত্যর মনে পড়ে গেল গত পরশু এই তারক দাসই তাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, বিশেষ দরকার, আজ দেখা করতে আসবে। তারপর অবশ্য আর ফোন টোন করেনি। কী দরকারে আদিত্যর সঙ্গে দেখা করতে চায় সেটাও ফোনে বলেনি।

শ্যামল চা নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। হাতে কেটলি আর ভাঁড়। আজকাল আদিত্য ঘরেই চা-কফি বানিয়ে নেয়, কিন্তু কদিন হল চা এবং কফি দুটোই ফুরিয়ে গেছে। তাই আজ শ্যামলকে পাঁচ-ছকাপ চা আনতে বলেছিল। ইচ্ছে ছিল, ফ্লাস্কে রেখে সারাদিন চালিয়ে নেবে। ভালই হল, অতিথিদের জন্য চা আনতে শ্যামলকে আর নীচে যেতে হবে না। এই পুরোনো বাড়ির সিঁড়িগুলো বেজায় উঁচু-উঁচু, সিঁড়ি ভাঙতে বেশ কষ্ট হয়। সে লম্বা লোকটাকে বলল, ‘আপনারা একটু চা খাবেন তো?”

লোকটা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাবার পর আদিত্য খেয়াল করল তার ঘরে মাত্র দুটো কাপই আছে। ভাগ্যিস শ্যামল একটা ভাঁড় সঙ্গে এনেছিল। দুটো কাপে চা ঢেলে শ্যামল আদিত্যর টেবিলে রাখল। একটা আদিত্যর জন্যে, আর একটা তার উলটো দিকে উপবিষ্ট তারক দাসের জন্যে। তারপর ভাঁড়ে চা ঢেলে এগিয়ে দিল বেঁটের দিকে। মনে হয়, শ্যামলও লম্বা-বেঁটের মধ্যে শ্রেণিবৈষম্যটা ধরতে পেরেছে। বেঁটে চায়ের ভাঁড় হাতে নিয়ে তাতে সশব্দে চুমুক লাগাল। কেটলির উদ্বৃত্ত চা দেরাজের ওপরে রাখা ফ্লাস্কে ঢেলে দিয়ে শ্যামল চলে গেল। যাওয়ার সময় দরজাটাও বন্ধ করে দিয়ে গেল।

লম্বা লোকটা, অর্থাৎ তারক দাস, মনে হয় শ্যামল চলে যাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করছিল। শ্যামল চলে যাওয়ার পর সে মুখ খুলল, আমার আসার কারণটা এবার বলি।’
আদিত্য হাত তুলে বলল, ‘এক মিনিট। তারপর সে উঠে রাস্তার দিকের জানালাটা খুলে দিয়ে ফের চেয়ারে এসে বসল। ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করে তারক দাসের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘চলবে?
খানিক ইতস্তত করে সিগারেট গ্রহণ করল তারক দাস। আদিত্য তার এবং নিজের সিগারেট ধরিয়ে পোড়া দেশলাই কাঠিটা অ্যাসট্রেতে গুঁজে দিয়ে বলল, ‘এবার বলুন।’
“আমরা জগৎমাতা টোব্যাকো কম্পানি থেকে আসছি। আমি কম্পানির জেনারেল ম্যানেজার। হালিশহরের কাছে আমাদের ফ্যাক্টরি। আমাদের কম্পানির নাম নিশ্চয় শুনেছেন।

তারক দাসের বলার ভঙ্গীতে মনে হল, শিশু বয়েস থেকে প্রতিটি বাঙালির জগৎমাতা টোব্যাকো কম্পানির কথা জানা উচিত। দুর্ভাগ্যবশত, ওরকম কোনও নাম আদিত্য কস্মিনকালেও শোনেনি। কিন্তু তারক দাসকে সেকথা জানালে সে যে শুধু মর্মাহত হবে তাই নয়, সম্ভবত আদিত্যর সাধারণ জ্ঞান নিয়েও সন্দিহান হয়ে উঠবে। তাই আদিত্য মুখ দিয়ে এমন একটা শব্দ করল যার মানে হ্যাঁ বা না দুটোই হতে পারে।

অভিরূপ সরকারের হরর থ্রিলার বই কুমুদিনী বিত্ত নিগম রহস্য Kumudini Bitto Nigam Rahasya pdf এখান থেকে পড়ুন

Be the first to comment

Leave a Reply