অপেক্ষাগৃহ pdf – প্রতিভা বসু Opekhagriho pdf – Protiva Basu

অপেক্ষাগৃহ pdf - প্রতিভা বসু Opekhagriho pdf - Protiva Basu
অপেক্ষাগৃহ pdf - প্রতিভা বসু Opekhagriho pdf - Protiva Basu

প্রতিভা বসুর Opekhagriho pdf অপেক্ষাগৃহ pdf ডাউনলোড করুন ও Opekhagriho pdf অপেক্ষাগৃহ pdf পড়ুন।

অপেক্ষাগৃহ pdf - প্রতিভা বসু Opekhagriho pdf - Protiva Basu
অপেক্ষাগৃহ pdf – প্রতিভা বসু Opekhagriho pdf – Protiva Basu

Opekhagriho pdf অপেক্ষাগৃহ pdf নমুনাঃ

হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল, দেবযানী পাশ ফিরলেন। মাথার কাছে টেবিলে জলের গ্লাস ঢাকা আছে, মশারীর ভিতর থেকে হাত বাড়িয়ে গ্লাসটা এনে জল খেলেন, তারপর আবার রেখে দিলেন। একটা মশা ঢুকেছে, গুনগুন করছে কানের কাছে, কপালে এসে বসছে, চাপড় মারলেন, মারতে পারলেন না, উড়ে গেল।

অজানা পার্সেল এর রহস্য pdf – স্বপনকুমার Ajana Parceler Rahasya pdf – Swapan Kumar

রাত এখন গভীর । জানালার বাইরে গাঢ় অন্ধকার, নিমগাছটা পাহাড়ের মতো বড়ো হ’য়ে উঠেছে সেই অন্ধকারে, পাখিরা ডানা ঝাপটালো, পাশের আমগাছ থেকে প্যাচা ডেকে উঠলো, একটু দুরে খালের ওপার থেকে একপাল শেয়ালের ডাক শোনা গেল, সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার বেওয়ারিশ কুকুরগুলোও গলা মিলিয়ে ঘেউ ঘেউ ক’রে উঠলো। এর মধ্যে গোটা পাঁচেক দেবযানীরই আশ্রিত, তাঁর দাওয়ায় পড়ে থাকে, ছ’মুঠো খায় আর রাত্তিরে কারণে অকারণে ডেকে উঠে বাড়ি পাহারা দেয়। তাতে চোরও যেমন বিরক্ত হয়, গৃহস্থরাও তেমনি বিরক্ত হয়। যোনি তো বটেই। তাঁর কানের কাছেই তো এই চিৎকার। অনেক সময় উঠে জানালায় গিয়ে দাড়িয়ে বকেন, থামতে বলেন, তারা অসময়ে দেবযানীর গলা শুনে খুশিতে অস্থির হয়, ল্যাজ নাড়ে, মুখ দিয়ে অনেক আকুতির শব্দ বার করে।

দেবযানী জানালা দিয়েই আদর করেন, বলেন, একটু কি ঘুমুতে দিবিনা? শেষে কি মার খেয়ে মরবি? পাড়ার সক্কলে খুব রেগে যায় কিন্তু, এক্ষুণি লাঠি নিয়ে আসবে।
জল খেয়ে আবার বালিশে মাথা দিয়ে টের পেলেন তাঁর বালিশটা ভেজা, তুই চোখে জলের সমুদ্র। কী হলো? স্বপ্ন দেখছিলেন নাকি ? মন যেন প্রবোধ মানছে না। মনও না, চোখের জলও না। বালিশের তলা থেকে রুমাল বার করে মুছলেন। আর তক্ষুনি নেটের মশারীর চালের উপর দিয়ে সিলিংয়ে পাখা ঝোলাবার আংটাটা চোখে পড়লো। এটা কেন ঝুলিয়েছিলো কে জানে, এটা বাড়তি, এটার কোন প্রয়োজন নেই। পাখা ঘুরছে ঘরের মাঝখানে সিলিংয়ে। অবশ্য এখন ঘুরছে না। এখন লোডসেডিং। শোবার সময়ই অন্ধকার ছিলো, লণ্ঠন কমানো আছে পায়ের তলায়, সারা ঘরটায় ভুতুড়ে ছায়া।

আব সেই ছায়া আলোতেই চকচক্‌ করছে লোহার গোল আংটাটা। চোখটা থেমে গেল। সঙ্গে সঙ্গে অনিমার স্বামীকে মনে পড়ে গেল। অনিমা তাঁর অল্প বয়সের বন্ধু। তার স্বামী রজত এই রকমই একটা আংটার সঙ্গে দড়ি ঝুলিয়ে ফাঁসি গিয়েছিলো। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কতো সহজেই প্রাণ ত্যাগ করে ফেললো ভদ্রলোক। নিজের স্বামীকেও মনে পড়লো। সে কিন্তু যেতে চায়নি। জীবনের প্রতি বড়ো মমতা ছিলো তার। স্ত্রীর প্রতিও। তবু তাকে যেতে হলো। একান্ত অসময়ে। একান্ত অনিচ্ছায়। দেবযানী লো প্রেশারে ভুগছিলেন তখন, রোজ গ্লুকোজ ইনজেকসন দিতে হচ্ছিলো। শয্যাশায়ী ছিলেন। সেই শয্যায় শুয়েই সন্দীপনের শেষ শয্যা দেখতে হলো। তিনি শয্যাত্যাগ করলেন।

Sharodiya Kishor Bharati 2015 pdf (1422) Pujabarshiki শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৪২২ pdf

জীবনের প্রতিও এই লো প্রেশারে আরো একবার খুব ভুগেছিলেন, সেই সময়ে অভ্যন্তরে একটি শিশু ছিলো। প্রথমে বুঝতে পারেননি, যখন পারনে বালিশে মুখ ঢেকে কেঁদেছিলেন। সন্দীপন বললো, ‘কী বোকা। কাঁদছো কেন?
কেন কাঁদছেন তা সন্দীপন জানতো। ।। একটা ব্যবসা করতে গিয়ে তাঁর অনেক ধার হয়েছিলো। ব্যবসা উঠে গেল ধারটা রইলো। আর তার সঙ্গে জুটলো স্ত্রীর এই নিম্ন রক্তচাপের অসুখ। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বেচারা প্রাণান্ত। ধারের টাকা কোথা থেকে দেবে তার তো কোনো ঠিকই নেই। কী নিদারুণ অনটনের মধ্যে যে সময় চলছিলো বলা যায় না। সেই সময়ে এই শিশু কেন এলো?

দেবযানীর বদান্যতায় বাড়ি তাঁর সব সময়েই অতিথিবহুল। ভাসুর শ্বশুর ননদ খুড়ো জ্যাঠা যার যখন প্রয়োজন সবাই এসে উঠেছে তাঁর কাছে। ইচ্ছেসুখ থেকেছে খেয়েছে, কোন বিনিময়ের ধাব না ধেরেই চলে গেছে অভদ্রের মতো। সন্দীপন পছন্দ করেনি। এ নিয়ে তর্ক করেছে স্ত্রীর সঙ্গে, বলেছে, ‘এরা তোমারই বা কে, আমারই বা কে?

কেন এসে ওঠে যখন তখন? এইটুকু একটা বাড়ি, কতো সময় কাজের লোক থাকে না, তোমার তো দেখি নিঃশ্বাস ফেলার সময় হয় না। এদের সেবা করে কী মোক্ষলাভ হচ্ছে শুনি? আমি যখন আমার বিধবা মাকে নিয়ে ষোলো বছর বয়সেই অকূলে ভাসলাম এরা কি এসে আমাকে দেখেছিল? না, এইসব লোককে আর আমি প্রশ্রয় দেবো না। তোমার এইসব ভালোমানুষি আমার অসহ্য লাগে। রমেশ মিত্রকে দেখছো না, কেমন টুরে এসে এখানে উঠে এখানে খেয়ে লম্বা লম্বা টি এ বিল করছে।

একটাই মাত্র শোবার ঘর, তুমি ঘুর ঘুর করছো এদিকে ওদিকে, তিনি দিব্যি তোমার বালিশে বিছানায় শুয়ে নাক ডাকাচ্ছেন। কী সুবাদে? না, তিনি আমার পিতার জ্ঞাতি ভ্রাতা। তাঁর মৃত্যুর সময় কোথায় ছিলো এইসব ভ্রাতারা?
দেবযানী স্বামীর মুখ চেপে ধরেছেন, ‘চুপ চুপ, শুনবে শুনবে । আছে দু’দিন চারদিন এসে থাকলে?”
কিন্তু সত্যিই কি কিছু হয়নি? হয়েছে। অভাব আর ঘোচেনি। একটি একটি করে পিতৃদত্ত সব গহনাই কোথায় তলিয়ে গেছে একদিন । তারপর কখন যেন রোদ উঠেছিলো একটু, দিনগুলোকে যেন মুঠোয় এনে ফেলতে পেরেছিলেন, সহসা কী দুর্মতি হলো সন্দীপনের, প্রকাশক হতে চেয়ে আবার সমূলে ডুবলো। সেই ডুবন্ত তরীতে নিজেরাই হাবুডুবু খাচ্ছেন, তার উপর বড়লোকি অসুখ, তার উপর অভ্যন্তরস্থ প্রাণের উদগম। না কেঁদে করবেন কী?

প্রতিভা বসুর Opekhagriho pdf অপেক্ষাগৃহ pdf ডাউনলোড করুন এখান থেকে ও Opekhagriho pdf অপেক্ষাগৃহ pdf এখান থেকে পড়ুন

Be the first to comment

Leave a Reply